Umrah Guide
ওমরাহ পালনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম
নিয়ত থেকে চুল কাটা পর্যন্ত ধাপে ধাপে সহজ ওমরাহ গাইড
Basmah Hajj Group হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নির্ভরযোগ্য, সুশৃঙ্খল এবং আন্তরিক সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠান। পবিত্র হজ ও ওমরাহর সফর যেন প্রতিটি যাত্রীর জন্য সহজ, নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং আধ্যাত্মিকভাবে পরিপূর্ণ হয়—এই লক্ষ্যেই আমরা সর্বোচ্চ দায়িত্ব ও যত্নের সঙ্গে কাজ করি।
পবিত্র ওমরাহ শুধু একটি ভ্রমণ নয়—এটি আল্লাহর ঘরের মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য, আত্মশুদ্ধি, তাওবা, ক্ষমা প্রার্থনা এবং রবের আরও নিকটবর্তী হওয়ার এক অনন্য সুযোগ।
সঠিক নিয়ম জানা থাকলে আপনি অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা ও ভুল এড়িয়ে প্রশান্তচিত্তে ওমরাহর প্রতিটি আমল সম্পন্ন করতে পারবেন। তাই Basmah Hajj Group আপনাদের জন্য প্রস্তুত করেছে ওমরাহ পালনের এই সহজ, বিস্তারিত ও ধাপে ধাপে নির্দেশিকা।
আপনার পবিত্র ওমরাহ যাত্রা হোক শুদ্ধ, সুন্দর ও আল্লাহর দরবারে কবুল।
আমরা বিশ্বাস করি, হজ ও ওমরাহ শুধুমাত্র একটি বিদেশ ভ্রমণ নয়; এটি একজন মুসলমানের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও আধ্যাত্মিক সফর। তাই এই পবিত্র যাত্রার প্রতিটি ধাপে সঠিক দিকনির্দেশনা, স্বচ্ছ যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।হযোগিতার মাধ্যমে সফলভাবে হাজারেরও বেশি পীরীত সফরের ব্যবস্থা করেছি।
এক নজরে ওমরাহ পালনের প্রধান ধাপ


ওমরাহর মূল কার্যক্রম চারটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়:
– ইহরাম গ্রহণ ও ওমরাহর নিয়ত করা
– পবিত্র কাবাঘর সাতবার তাওয়াফ করা
– সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাত চক্কর সাঈ করা
– পুরুষদের মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা এবং নারীদের চুলের অগ্রভাগ কাটা
চুল কাটার মাধ্যমে ওমরাহ সম্পন্ন হয় এবং ইহরামের বিধিনিষেধ শেষ হয়ে যায়।
ওমরাহর আগে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি
পবিত্র সফরে বের হওয়ার আগে শুধু ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করলেই যথেষ্ট নয়। অন্তরকেও এই মহান ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
১. নিয়ত বিশুদ্ধ করুন
ওমরাহ হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে। লোক দেখানো, সামাজিক মর্যাদা বা প্রশংসা পাওয়ার মানসিকতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।
২. আন্তরিকভাবে তাওবা করুন
জানা-অজানা সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় সংকল্প করুন।
৩. মানুষের হক আদায় করুন
কারও টাকা পাওনা থাকলে পরিশোধের চেষ্টা করুন। কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিন। আমানত, ঋণ ও পারিবারিক দায়িত্বগুলো যথাসম্ভব গুছিয়ে যান।
৪. হালাল অর্থে সফর করুন
ওমরাহর খরচ হালাল উপার্জন থেকে বহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক বা অবৈধ উপার্জন থেকে পবিত্র ইবাদতের ব্যয় করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. প্রয়োজনীয় মাসআলা শিখুন
ইহরাম, তাওয়াফ, সাঈ, চুল কাটা এবং ইহরামের নিষিদ্ধ কাজগুলো আগে থেকেই জেনে নিন। সফরের সময় প্রয়োজন হলে আপনার বিশ্বস্ত আলেম, মুআল্লিম বা গ্রুপ গাইডের সহযোগিতা নিন।
৬. শারীরিক প্রস্তুতি নিন
ওমরাহ পালনের সময় অনেক হাঁটতে হতে পারে। সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন। ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রয়োজনীয় ওমরাহ প্রস্তুতি চেকলিস্ট
সফরে বের হওয়ার আগে নিচের জিনিসগুলো প্রস্তুত রাখুন:
✅ বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসার কপি
✅ ফ্লাইট টিকিট ও হোটেল বুকিং তথ্য
✅ প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র বা অ্যাপের তথ্য
✅ জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
✅ জরুরি যোগাযোগের নম্বর
✅ সৌদি আরবে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রুপ লিডারের নম্বর
✅ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন
✅ ইহরামের কাপড় ও ইহরামের বেল্ট
✅ আরামদায়ক স্যান্ডেল
✅ ছোট ব্যাগ বা কোমরের পাউচ
✅ মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক
✅ পানির বোতল
✅ ছাতা ও মাস্ক
✅ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী
✅ সুগন্ধিবিহীন সাবান ও টিস্যু
✅ প্রয়োজনীয় দোয়ার বই বা মোবাইল অ্যাপ
গুরুত্বপূর্ণ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ছবি মোবাইল ও ই-মেইলে সংরক্ষণ করে রাখুন।
ধাপ ১: ইহরামের প্রস্তুতি
ইহরাম শুধু দুটি সাদা কাপড়ের নাম নয়। ওমরাহর নিয়ত করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি বিশেষ পবিত্র অবস্থায় প্রবেশ করেন—এ অবস্থাকেই ইহরাম বলা হয়।
ইহরামের আগে করণীয়
মীকাত অতিক্রম করার আগেই ইহরামের প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন:
– প্রয়োজন হলে নখ কেটে নিন
– গোঁফ ও অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করুন
– গোসল করুন
– ওজু করুন
– পুরুষেরা শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারেন, তবে ইহরামের কাপড়ে নয়
– ইহরামের পোশাক পরুন
– ফরজ নামাজের সময় হলে ফরজ নামাজ আদায় করুন
– অন্যথায় সুযোগ থাকলে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে পারেন
ইহরামের নিয়ত করার পর আর সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না।
পুরুষদের ইহরামের পোশাক
পুরুষেরা সাধারণত দুটি পরিষ্কার সাদা কাপড় পরবেন:
– নিচের কাপড়কে বলা হয় ইযার
– ওপরের কাপড়কে বলা হয় রিদা
পুরুষেরা ইহরাম অবস্থায় শার্ট, পাঞ্জাবি, প্যান্ট, অন্তর্বাস, টুপি বা শরীরের অঙ্গের আকৃতি অনুযায়ী তৈরি সাধারণ পোশাক পরবেন না।
ইহরামের কাপড় দিয়ে সব সময় উভয় কাঁধ ঢেকে রাখবেন। শুধু তাওয়াফের সময় পুরুষেরা ডান কাঁধ উন্মুক্ত করবেন। তাওয়াফ শেষ হলে নামাজের আগে আবার কাঁধ ঢেকে নিতে হবে।
নারীদের ইহরামের পোশাক
নারীদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট রঙ বা বিশেষ ধরনের ইহরামের পোশাক নেই। তারা শরিয়তসম্মত, ঢিলেঢালা, পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরবেন।
ইহরাম অবস্থায় নারীরা:
– স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরতে পারবেন
– মাথা ও চুল ঢেকে রাখবেন
– সুগন্ধি ব্যবহার করবেন না
– নিকাব ও হাতমোজা ব্যবহার করবেন না
– সাজসজ্জা ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী পোশাক এড়িয়ে চলবেন
মুখ ঢাকার প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত আলেম বা গ্রুপ গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
মীকাত কী?
মীকাত হলো নির্ধারিত সীমানা, যা ওমরাহর নিয়ত ছাড়া অতিক্রম করা যাবে না।
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি জেদ্দাগামী যাত্রীরা সাধারণত বিমানে থাকা অবস্থায় মীকাত অতিক্রম করেন। তাই:
– বিমানে ওঠার আগেই ইহরামের পোশাক পরে নেওয়া সুবিধাজনক
– মীকাত আসার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন
– বিমান কর্তৃপক্ষ বা গ্রুপ গাইড মীকাতের ঘোষণা দিলে নিয়ত করুন
– জেদ্দায় পৌঁছে নিয়ত করব—এভাবে মীকাত অতিক্রম করা ঠিক নয়
যারা প্রথমে মদিনায় যাবেন, তারা মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় যুল হুলাইফা বা আবইয়ারে আলী মীকাত থেকে ইহরাম গ্রহণ করবেন।
ওমরাহর নিয়ত
মীকাতের আগে বা মীকাত বরাবর পৌঁছালে অন্তরে ওমরাহর দৃঢ় ইচ্ছা করে বলুন:
আরবি:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً
উচ্চারণ:
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা উমরাহ
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি ওমরাহ পালনের জন্য আপনার দরবারে উপস্থিত হয়েছি।
নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা সহায়ক হলেও মূল নিয়ত অন্তরের সংকল্প।
অসুস্থতা, বাধা বা বিশেষ পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলে বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শে শর্তযুক্ত নিয়ত করা যেতে পারে।
তালবিয়া পাঠ
নিয়ত করার পর তালবিয়া পাঠ শুরু করুন:
আরবি
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
উচ্চারণ:
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক।
অর্থ:
আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত। আপনার কোনো শরিক নেই, আমি আপনার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চয়ই সব প্রশংসা, সব নিয়ামত এবং সব রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো শরিক নেই।
পুরুষেরা মাঝারি উচ্চ স্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন। নারীরা এমনভাবে নিচু স্বরে পড়বেন, যেন পাশের নারী বা মাহরাম শুনতে পান।
তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত তালবিয়া, জিকির, দরুদ ও দোয়া পড়তে থাকুন।
ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
ওমরাহর নিয়ত করার পর থেকে চুল কাটা পর্যন্ত ইহরামের বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।
নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ:
– শরীর, কাপড় বা চুলে সুগন্ধি ব্যবহার করা
– ইচ্ছাকৃতভাবে নখ কাটা
– ইচ্ছাকৃতভাবে চুল বা লোম কাটা
– স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা
– যৌন উত্তেজক আচরণ বা কথা বলা
– বিয়ের আকদ করা বা করানো
– স্থলজ বন্য প্রাণী শিকার করা
– ঝগড়া, গালাগাল ও অশোভন আচরণ করা
শুধু পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ:
– মাথা ঢেকে রাখা
– শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, অন্তর্বাস ও শরীরের অঙ্গ অনুযায়ী তৈরি পোশাক পরা
– শুধু নারীদের জন্য নিষিদ্ধ
– নিকাব পরা
– হাতমোজা পরা
ভুলবশত কোনো নিষিদ্ধ কাজ হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত আপনার আলেম বা দায়িত্বপ্রাপ্ত মুআল্লিমের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
মক্কায় পৌঁছানোর পর করণীয়
মক্কায় পৌঁছানোর পর হোটেলে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নিতে পারেন। ইহরাম অবস্থায় গোসল করা, কাপড় পরিবর্তন করা বা ইহরামের কাপড় ধোয়া বৈধ—তবে সুগন্ধিযুক্ত সাবান বা প্রসাধনী এড়িয়ে চলুন।
শারীরিকভাবে প্রস্তুত হলে ওজু করে মসজিদুল হারামের উদ্দেশ্যে রওনা হোন।
মূল্যবান জিনিসপত্র হোটেলের নিরাপদ স্থানে রাখুন। সঙ্গে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস নিন।
মসজিদুল হারামে প্রবেশ
মসজিদুল হারামে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করুন এবং সাধারণ মসজিদে প্রবেশের দোয়া পড়ুন:
আরবি:
اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মাফতাহ লি আবওয়াবা রাহমাতিক।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।
কাবাঘর প্রথম দেখার সময় আল্লাহর মহত্ত্ব অনুভব করুন, তাঁর প্রশংসা করুন এবং অন্তর থেকে দোয়া করুন। তবে কাবা প্রথম দেখার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক দোয়া নেই।
ধাপ ২: তাওয়াফের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম
তাওয়াফ অর্থ পবিত্র কাবাঘরকে বাম পাশে রেখে সাতবার প্রদক্ষিণ করা। প্রতিটি চক্কর হাজরে আসওয়াদের বরাবর থেকে শুরু হয়ে আবার হাজরে আসওয়াদের বরাবর এসে শেষ হয়।
তাওয়াফ শুরুর প্রস্তুতি
– ওজু অবস্থায় থাকুন
– শরীর ও পোশাক পবিত্র রাখুন
– পুরুষেরা ওপরের ইহরামের কাপড় ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধে রাখবেন
– এতে ডান কাঁধ উন্মুক্ত থাকবে
– নারীরা স্বাভাবিকভাবে উভয় কাঁধ ঢেকে রাখবেন
পুরুষদের ডান কাঁধ উন্মুক্ত রাখার এই পদ্ধতিকে ইযতিবা বলা হয়। এটি শুধু ওমরাহর তাওয়াফের সময় করা হয়।
তাওয়াফ কোথা থেকে শুরু করবেন?
হাজরে আসওয়াদের বরাবর সবুজ বাতি বা নির্ধারিত চিহ্ন দেখে তাওয়াফ শুরু করুন।
হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন করা সহজ হলে অন্যকে কষ্ট না দিয়ে করতে পারেন। ভিড় থাকলে দূর থেকে ডান হাত উঠিয়ে বলুন:
বিসমিল্লাহি, আল্লাহু আকবার।
হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন করার জন্য ধাক্কাধাক্কি করা, কাউকে কষ্ট দেওয়া বা নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়। এটি স্পর্শ করতে না পারলেও তাওয়াফ সম্পূর্ণ শুদ্ধ হবে।
তাওয়াফের সাত চক্কর
কাবাঘরকে বাম পাশে রেখে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে চলুন।
- হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করুন
- একবার কাবাঘর ঘুরে একই স্থানে ফিরে এলে এক চক্কর হবে
- এভাবে মোট সাত চক্কর সম্পন্ন করুন
- প্রতিবার হাজরে আসওয়াদের বরাবর এলে হাত তুলে “আল্লাহু আকবার” বলতে পারেন
পুরুষদের জন্য রমল
পুরুষেরা সম্ভব হলে প্রথম তিন চক্করে ছোট ও দ্রুত পদক্ষেপে কিছুটা বীরত্বপূর্ণভাবে হাঁটবেন। একে রমল বলা হয়।
শেষ চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
ভিড়, অসুস্থতা, বয়স বা নিরাপত্তাজনিত কারণে রমল করতে না পারলে কোনো সমস্যা নেই।
নারীরা সব চক্করে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন।
তাওয়াফের সময় কী পড়বেন?
তাওয়াফের প্রতিটি চক্করের জন্য আলাদা নির্ধারিত দোয়া নেই। আপনি পড়তে পারেন:
- কুরআন তিলাওয়াত
- সুবহানাল্লাহ
- আলহামদুলিল্লাহ
- আল্লাহু আকবার
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
- দরুদ শরিফ
- ইস্তিগফার
- নিজের ভাষায় দোয়া
- পরিবার, দেশ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া
রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে পড়তে পারেন:
আরবি
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ:
রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাঁও, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও, ওয়াকিনা আযাবান নার।
অর্থ:
হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা
রুকনে ইয়ামানি সহজে স্পর্শ করা সম্ভব হলে ডান হাতে স্পর্শ করতে পারেন। চুম্বন করবেন না।
স্পর্শ করা সম্ভব না হলে দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করার প্রয়োজন নেই। ভিড় ঠেলে এগোনোরও প্রয়োজন নেই।
তাওয়াফের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- কাবাঘর সব সময় বাম পাশে রাখুন
- তাওয়াফের বিপরীত দিকে হাঁটবেন না
- ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ থেমে যাবেন না
- ছবি বা ভিডিও করার কারণে অন্যের চলাচল বাধাগ্রস্ত করবেন না
- জোরে সম্মিলিত দোয়া পড়ে অন্যের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবেন না
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শের জন্য ধাক্কাধাক্কি করবেন না
- হাতীম বা হিজরে ইসমাইলের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করবেন না
হিজরে ইসমাইল কাবাঘরের অংশ। তাই এর ভেতর দিয়ে গেলে কাবাঘরের পূর্ণ অংশ প্রদক্ষিণ করা হয় না।
তাওয়াফের মধ্যে নামাজ শুরু হলে
ফরজ নামাজের ইকামত হলে তাওয়াফ সাময়িক বন্ধ করে জামাতে নামাজ আদায় করুন। নামাজ শেষে যে স্থান বা চক্করে তাওয়াফ থামিয়েছিলেন, সেখান থেকে বাকি তাওয়াফ সম্পন্ন করুন।
চক্করের সংখ্যা ভুলে গেলে যে সংখ্যাটি নিশ্চিতভাবে মনে আছে, সেটি ধরে বাকি চক্কর পূর্ণ করুন।
তাওয়াফ শেষে দুই রাকাত নামাজ
সাত চক্কর শেষ হলে পুরুষেরা ডান কাঁধ ঢেকে নেবেন।
সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহিমকে সামনে রেখে সুবিধাজনক স্থানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করুন। ভিড় থাকলে মাকামে ইবরাহিমের ঠিক পেছনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবেন না। মসজিদুল হারামের অন্য যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে নামাজ পড়া যাবে।
সুযোগ থাকলে:
- প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা কাফিরুন
- দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা ইখলাস পড়তে পারেন।দুই রাকাত নামাজ আদায় তাওয়াফের পরের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল।
জমজমের পানি পান
নামাজের পর জমজমের পানি পান করুন।
- বিসমিল্লাহ বলে পান করুন
- সম্ভব হলে কিবলামুখী হোন
- তিন শ্বাসে পান করুন
- আল্লাহর প্রশংসা করুন
- সুস্থতা, হেদায়াত, উপকারী জ্ঞান ও কবুলিয়তের জন্য দোয়া করুন
একটি প্রসিদ্ধ দোয়া:
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا وَاسِعًا، وَشِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিযকান ওয়াসিআ, ওয়া শিফাআন মিন কুল্লি দা।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সব রোগ থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করছি।
ধাপ ৩: সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ
তাওয়াফ ও তাওয়াফের নামাজ শেষে সাফার দিকে যান। মসজিদের ভেতরের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করলে সহজেই সাঈর স্থান বা মাসআ খুঁজে পাবেন।সাঈ শুরু হবে সাফা থেকে এবং শেষ হবে মারওয়ায়।
সাফায় পৌঁছে করণীয়
সাফার কাছে পৌঁছে একবার পড়তে পারেন:
আরবি: إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ
উচ্চারণ: ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ।
অর্থ: নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
এরপর বলুন: আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি।
অর্থ: আল্লাহ যেটি দিয়ে শুরু করেছেন, আমিও সেটি দিয়ে শুরু করছি।
সাফার উঁচু অংশে বা নির্ধারিত স্থানে দাঁড়িয়ে কাবার দিকে মুখ করুন। কাবা দেখা না গেলেও কিবলামুখী হয়ে:
– আল্লাহর প্রশংসা করুন
– “আল্লাহু আকবার” বলুন
– “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়ুন
– দরুদ পড়ুন
– নিজের প্রয়োজনের জন্য দোয়া করুন
সাঈর সাত চক্কর কীভাবে গণনা করবেন?
সাঈতে এক দিকের যাত্রাকে এক চক্কর হিসেবে গণনা করা হয়:
- সাফা থেকে মারওয়া — প্রথম চক্কর
- মারওয়া থেকে সাফা — দ্বিতীয় চক্কর
- সাফা থেকে মারওয়া — তৃতীয় চক্কর
- মারওয়া থেকে সাফা — চতুর্থ চক্কর
- সাফা থেকে মারওয়া — পঞ্চম চক্কর
- মারওয়া থেকে সাফা — ষষ্ঠ চক্কর
- সাফা থেকে মারওয়া — সপ্তম ও শেষ চক্কর
অর্থাৎ সাঈ সাফা থেকে শুরু হয়ে মারওয়ায় শেষ হবে।
সবুজ চিহ্নের মধ্যবর্তী অংশ
সাফা ও মারওয়ার পথে সবুজ বাতি বা সবুজ চিহ্নযুক্ত একটি অংশ রয়েছে।
- পুরুষেরা সক্ষম হলে এই অংশে কিছুটা দ্রুত চলবেন বা হালকাভাবে দৌড়াবেন
- সবুজ অংশ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন
- নারীরা সব সময় স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবেন
- অসুস্থ, বয়স্ক বা দুর্বল পুরুষের জন্য দ্রুত চলা জরুরি নয়
পুরুষদের সবুজ চিহ্নের মধ্যবর্তী স্থানে দ্রুত চলার বিষয়টি Nusuk-এর সরকারি ওমরাহ নির্দেশিকায়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সাঈর সময় কী পড়বেন?
সাঈর প্রতিটি চক্করের জন্য আলাদা বাধ্যতামূলক দোয়া নেই। আপনি পড়তে পারেন:
- কুরআন তিলাওয়াত
- তালবিয়া নয়, বরং সাধারণ জিকির
- ইস্তিগফার
- দরুদ শরিফ
- কালিমা
- নিজের ভাষায় দোয়া
- দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া
ক্লান্ত হলে পাশে দাঁড়িয়ে বা নির্ধারিত স্থানে বসে বিশ্রাম নিতে পারেন। অন্যদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবেন না।
ধাপ ৪: মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা
সাঈর সপ্তম চক্কর মারওয়ায় শেষ হওয়ার পর চুল কাটার মাধ্যমে ওমরাহ সম্পন্ন হবে।
পুরুষদের জন্য
পুরুষদের দুটি পদ্ধতি রয়েছে:
– হলক: সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডানো।
– কসর: মাথার চারপাশের চুল সমানভাবে ছোট করা।
সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডানো অধিক ফজিলতপূর্ণ। তবে কাছাকাছি সময়ে আরেকটি ওমরাহ বা হজ করার পরিকল্পনা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চুল ছোট করা যেতে পারে।
শুধু মাথার এক পাশ বা সামান্য কয়েকটি চুল কেটে শেষ না করে পুরো মাথার চুল থেকে সমানভাবে ছোট করুন।
নারীদের জন্য
নারীরা মাথা মুণ্ডাবেন না।
চুল একত্র করে বা বিনুনির প্রতিটি অংশের অগ্রভাগ থেকে প্রায় এক থেকে দুই সেন্টিমিটার বা আঙুলের ডগা পরিমাণ চুল কাটবেন।
নারীরা গোপন ও নিরাপদ স্থানে নিজেরা অথবা অন্য কোনো নারী বা মাহরামের সহযোগিতায় চুল কাটবেন।
পুরুষদের মাথা মুণ্ডানো বা ছোট করা এবং নারীদের চুলের অগ্রভাগ থেকে প্রায় ১–২ সেন্টিমিটার কাটার মাধ্যমে ওমরাহ সম্পন্ন হয়।
Facilities
Visa Processing
Hotel Booking
Ziyarat Tours
Airline ticketing
Umrah Training
All content and creatives on this website are the property of Basmah Hajj Group.

